eBook ¸ স্বপ্নভ্রমণ জেরুসালেম ç 260 pages Õ randarenewables

kindle ´ স্বপ্নভ্রমণ জেরুসালেম â Bulbul Sarwar

স্বপ্নভ্রমণ জেরুসালেম ?? উঁচু নরর প্রাচীর। আছে রানি বিলকিস জেজেবেল হেরেম সুলতান রোক্সালিনা। আছে প্রকৌশলী চার্লস ওয়ারেন ইলুমিনিতির হিরাম আবিফ ও হসপিটালার টেম্পলাররা।দ্বিতীয় কিবলার পাশাপাশি আছে রোদন প্রাচীর। নেবুকান্দনেজার ও টাইটাসের কান্নার সাথে মিশে আছে ইহুদি বর্বরতা। আছেন ই? পাঠ প্রতিক্রিয়া ‘স্বপ্নভ্রমণ জেরুজালেম’ভ্রমণকাহিনী লেখার সময় লেখকদের অনেক দায়িত্বশীল হওয়া উচিত এক সময় লেখক থাকবেন না এখনকার পাঠকেরাও থাকবেন না কিন্তু ভবিষ্যতের মানুষেরা সেই দেশ ও সময়কে জানতে পারেন কেবল লেখকের সেই লেখা অভিজ্ঞতাগুলো থেকেই। সম্প্রতি ২০১৭ সালে প্রকাশিত বুলবুল সারোয়ারের ‘স্বপ্নভ্রমণ জেরুজালেম’ পড়লাম লেখকের জেরুজালেম ভ্রমণের স্মৃতিকথা। নাম শুনেই উৎসাহ পেয়েছি বইটি পড়ার জন্য আর ২০১৮র অক্টোবর মাসে জেরুজালেম ঘুরে আসলাম আমরা তাই কিছুটা কৌতূহল এবং উৎসাহ নিয়েই পড়া শুরু করলাম সেই সাথে এটাও জানার ইচ্ছে ছিল সে লেখক কিভাবে ইজরায়েল ভ্রমণে গেলেন যেহেতু বাংলাদেশী পাসপোর্টে সেখানে যাওয়া যায় না । ২০১৭ সালে এক বাংলাদেশী জেরুজালেমে যেতে সক্ষম হন ইংল্যান্ড থেকে যাকে বাংলাদেশি পাসপোর্টে ইসরায়েলে প্রবেশ করা প্রথম ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে জেরুজালেম পোস্ট। সেটা এক বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে যেখানে সেই ব্যক্তি নিজেকে ইজরায়েল ইহুদী ধর্মপ্রেমী ইত্যাদি হিসেবে নানা বছরের ইতিহাস দেখিয়ে সারা জীবনের জন্য সেখানে যেতে চেয়েছেন। যদিও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কোনো নাগরিক ইসরায়েলে ভ্রমণের জন্য অনুমোদিত নয়। এমনকি বাংলাদেশি পাসপোর্টেও উল্লেখ আছে যে ভ্রমণকারী ব্যক্তি ইসরায়েলে ভ্রমণ করতে পারবেনা। বইয়ের প্রথম পাতাতেই ‘প্রবেশক’ এ লেখক উল্লেখ করেছেন সিনাই তাবার সীমান্তে যখন বাংলাদেশী পাসপোর্টে ‘নিষেধাজ্ঞা’ সেই সীমান্ত দিয়েই আমরাও ইজরায়েলে প্রবেশ করেছিলাম দেখানো হয় তখন সস্ত্রীক তিনি ইব্রাহিম আঃ থেকে ঈসা আঃ পর্যন্ত সকল নবীকে স্বীকার করেও মহানবী মুহম্মদ সাঃ এর উম্মত থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন। সাধু সিদ্ধান্ত কিন্তু এর পরেই লেখক উল্লেখ করেছেন যে এই প্রাচীন নগরী তাকে বুকে টেনে নিল কিছুই বুঝলাম না এভাবে তো আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করা যায় না। তাহলে ব্যাপারটা কোথায়?বইটি বেশ সুপাঠ্য এবং তথ্যসমৃদ্ধ জেরুজালেমের ইতিহাস এবং নানা স্থাপত্য নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ আছে। সেই সাথে নানা যুদ্ধের ক্রুসেডের এবং ইহুদী জাতির ইজরায়েলের মাটিতে ধীরে ধীরে আগমনের ইতিহাস সম্পর্কে ভালোই জানা যায়। ধাক্কা খেলাম ৮৫ পাতায় এসে যেখানে লেখক ২য় বিশবযুদ্ধে ইহুদীদের উপর নাৎসি বাহিনীর অত্যাচারকে বর্ণনা করেছেন ‘ নির্যাতনের বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার সাথে কল্পনার রং চড়িয়ে চরম তথ্য সন্ত্রাস করা হলো।‘ – এটি একটি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং চরম কলঙ্কিত স্টেটমেন্ট আর সব কিছু বাদ দিয়ে হলেও যেখানে ৬০ লক্ষ মানুষকে শুধু মাত্র ইহুদী পরিবারে জন্ম নেবার অপরাধেই গ্যাস চেম্বারে পুড়িয়ে মেরেছিল নাৎসিরা যার প্রমাণ আছে সবখানেই সেখানে এমন উন্নাসিক মন্তব্য খুবই দুঃখজনক। ইতিহাসের নানা ডাল পালা বেয়ে ২৫৮ পাতার বইটিতে প্রাসঙ্গিক এবং অপ্রাসঙ্গিক ভাবে এসেছে ব্রিটিশ রাজ পরিবারের বিশেষ রাণী ভিক্টোরিয়ার কথা স্পেনের রানী ইসাবেলা অটোম্যান সাম্রাজ্যের সুলতানের কথা এবং ইতিহাসের সাথে সাথে এসেছে নানা কন্সপেরিসি থিয়োরির কথা। সত্যি কথা কন্সপেরিসি থিয়োরির তোড়ে ভেসেই যাচ্ছিলাম কেবল একটির কথা উল্লেখ করি উইনষ্টন চার্চিল এক রোমানিয়ান তরুণীর প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ব্রাম স্ট্রোকার ‘ ড্রাকুলা’ লিখেন রোমানিয়ান চরিত্রকে ভিলেন বানিয়ে এমন কথা লেখা হয়েছে একাধিকবার। এটি অত্যন্ত অবিচার বই ও লেখকের প্রতি। প্রথম কথা উনি ব্রাম স্ট্রোকারকে ইংরেজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন কিন্তু ব্রাম স্ট্রোকার ছিলেন আইরিশ আয়ারল্যান্ডের মানুষ এই দুই জাতির মধ্যে আছে চির রেষারেষি। আর ফরমায়েশ করে এমন বই লেখানো যায় না আমাদের কাছে ড্রাকুলা শুধু গা ছমছমে ভ্যাম্পায়ার কাহিনী হলেও সাহিত্যবোদ্ধার কাছে সে এক ব্রিটিশ উপনিবেশিকতা বিরোধী এক অদ্বিতীয় অনন্য উপন্যাস যা গ্যাব্রিয়েল গার্সিইয়া মার্কেজের কাছ থেকে উপহার পেয়ে সারা রাত জেগে পড়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম পড়ুয়া ফিদেল কাস্ট্রো। সেই সাথে ড্রাকুলার কাহিনী কয়েকশ বছরের পুরনো কিংবদন্তী। একজন লেখক হয়ে এভাবে একজন ক্ল্যাসিক লেখক সম্পর্কে লেখা খুবই অন্যায়। বইয়ের একেবারে শেষে মিশরের তাবায় হিলটন হোটেলের বিছানায় লেখকের স্ত্রী তাকে টেনে তলেন তিনি অবাক হয়ে জানতে চান যে তিনি কোথায় এবং তার আগের লাইনেই লিখেছিলেন ‘ কবির স্বপ্নকে বন্দী করার কানুন তো সব দেশের সরকারই বৈধ করেছেন’ – মানে ব্যাপারটা বোধগম্য হল না বইয়ের নাম তো ‘স্বপ্নভ্রমণ জেরুজালেম’ তাহলে কি লেখক বুলবুল সারোয়ারের কুশলী ভাষায় লেখা এ এক কাল্পনিক ভ্রমণকাহিনী? কিন্তু সারা বইতে তো তেমন কোন উল্লেখ নেই। ‘ঐতিহ্য’ প্রকাশিত চমৎকার ভাবে ছাপা বইটির দাম রাখা হয়েছে ৫৮০টাকা। বইটি নিয়ে সন্দেহ এবং কিছু ভুল তথ্য উপস্থাপনের জন্যই এই পাঠ প্রতিক্রিয়া পাঠক মাত্রেই এই অধিকার সবারই রয়েছে।লেখক বুলবুল সারোয়ারের সাথে ব্যক্তিগত পরিচয় নেই থাকলে অবশ্যই জানতে চাইতাম এই বিষয়গুলো নিয়ে। এবং সীমান্ত অতিক্রমের বিষয়টি নিয়ে ।

ePub স্বপ্নভ্রমণ জেরুসালেম

eBook ¸ স্বপ্নভ্রমণ জেরুসালেম ç 260 pages Õ randarenewables õ পৃথিবীর সবচেয়ে প্রার্থিত সোনার গম্বুজ। যার নিচেই আছে পবিত??্রাহিম থেকে এরিয়াল শ্যারন পর্যন্ত মহানায়ক খলনায়ক।তাই সেই সোনালি গম্বুজের টান চিরায়ত। বিশ্ব পর্যটকের সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ সেখানে। বহু বছরের খাঁজে লুকিয়ে থাকা সেই স্বপ্ন সেই প্রেমের অঞ্জলি না ইতিহাস না ঘৃণার উপাখ্যান। প্রেম ছাড়া এ পরিভ্রমন অসম্পূর্ণ; অর্থহীন? 355 starsAn excellent read

Bulbul Sarwar â স্বপ্নভ্রমণ জেরুসালেম kindle

পৃথিবীর সবচেয়ে প্রার্থিত সোনার গম্বুজ। যার নিচেই আছে পবিত্র কালো পাথর। আছে আত্মার রহস্য আছে বোরাককে বেঁধে রাখার স্তম্ভ এবং ঊর্ধ্বাকাশ গমনের ডোম।আছে রক্ত আছে ধ্বংস আছে ক্রুসেড। আছে ওমরের ক্ষমা সালাদীনের মহিমান্বিত বিজয় সুলতান সুলেমানের কীর্তিময় চল্লিশ ফু? জেরুসালেমের ইতিহাসের সাথে পুরো বিশ্বের ইতিহাস জড়িত। সেই জেরুসালেম ভ্রমণ কাহিনী নিয়ে বুলবুল সরওয়ারের এই বই।জনাব বুলবুল সরওয়ার একটি বিশেষ মতাদর্শের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জানতাম। কিন্তু তিনিও যে তাদেরই মতাদর্শের লোক তা জানা ছিল না।ধন্যবাদ জনাবকে নিজের পরিচয় প্রকাশ করার জন্যে। জনাবের মতো উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক আর কতো ঘাপটি মেরে সাধু সেজো আছে কে জানে? সারা বইতে জেরুসালেম ভ্রমণের নামে পুরো জেরুসালেমের ইতিহাস একটানা লিখেছেন।যেন ভ্রমণকাহিনী নয় পাক্কা ঐতিহাসিক হিসেবে পাঠ্যবই লিখতে বসেছেন। তার উগ্রবাদীতার নজির শেবার রানীর কাহিনী লিখতে গিয়ে যা লেখেন সে হলো জিন এবং মানুষের ঔরসজাত কিংবা আল্লাই ভালো জানেন এক অপরূপ ললনা যার দেহে সূর্যের আভা। শত সহস্র সেনাপতি তার আজ্ঞাবহ এবং তার কাছে পরাস্ত হিন্দুস্তানের দেবতা রাম কৃষ্ণ পৃষ্ঠা ১০২ শেবার রানীর কাহিনীতে রামকৃষ্ণ কোথা থেকে প্রাসঙ্গিক হয়? মীর মশাররফ বিষাদসিন্ধু তে মরুভূমিতে হিন্দু ব্রাহ্মণ খুঁজে বের করে তাদেরকে মুসলমান বানিয়ে ছেড়েছিলেন। জনাব বুলবুল সরওয়ারও তো কম যান না। আধুনিকতাই কি জন্ম দেয়নি চরমপন্থার? পৃষ্ঠা ১৯২ আধুনিকতার সাথে চরমপন্থার জন্মের সম্পর্ক তিনি অবশ্য ব্যাখা করেননি। মুঘলদের সাড়ে তিনশো বছরের ইতিহাসে একটিও বিদ্রোহ নেই ; অথচ ইংরেজদের পৌনে দুশো বছরে অগুনিত বিদ্রোহ বিপ্লব এবং গণজাগরণ। পৃষ্ঠা ১৮৬ আমার প্রশ্ন লেখকের নিজ মাতৃভূমি বারো ভূঁইয়াদের কথা তিনি বেমালুম ভুলে গেলেন? আর মুঘলদের পিতা পুত্রের ক্ষমতা আর নারী ভাগাভাগি নিয়ে বিদ্রোহ পু্ত্রের মাথা কেটে পিতাকে উপহার দেয়ার ঘটনা নাহয় নাই বললাম। আর খ্রিস্টানদের কান্ডটা সর্বার্থেই ভয়াবহ। ইহুদিদের হাতে বোনা পবিত্র গ্রন্থের অর্ধেক তারা ধার নিয়েছে বড়ভাই থেকে ; যা আবার হাদিসের মতো যাচাই বাছাই করার চেয়ে ঠিকঠাক করা হয়েছে সমকালীন চার্চ সম্রাটের ইচ্ছা ও উচিতের দোহাই দিয়ে। পৃষ্ঠা ১৫৩ বাইবেল নিয়ে সরাসরি এগুলো লিখছেন। লেখক নিজেকে ধর্মপ্রাণ দাবি করার চেষ্টা করেছেন সারা বইতে। একজন ধর্মপ্রাণ নিশ্চয়ই অন্যের ধর্মেকে হেয় করে নিজের দ্বীনকে মহিমান্বিত করতে চেষ্টা করেন না। আমার চোখ ভিজে আসে। কারণ ঈসা নবীর শিক্ষা এবং উপদেশ এত দ্রুত ইহুদিরা গিলে ফেলে যে মাত্র পাঁচশো বছরের মধ্যেই নতুন নবী পাঠাতে হয় দুনিয়ায়। পৃষ্ঠা ১৩৭ ঈসা আ কী শুধু ইহুদিদের জন্য এসেছিলেন? না যদি ঈসার সব উপদেশ ইহুদিরাই গিলতো তবে আরবে কেন নবী হযরত মুহাম্মদ স জন্মেছিলেন? উপদেশ গিলে খেল ইহুদিরা অথচ নবী এলেন আরবদের মাঝে? কাকে ভুল প্রমাণ করতে চায় এই বুলবুল সরওয়ার? কাদের মাঝে নবী প্রেরিত হয় তা ক্লাস ফাইভের ইসলাম শিক্ষা বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে লেখা আছে। লেখকের উচিত অবিলম্বে তা পাঠ করা।এতো সাম্প্রদায়িক লোক কীভাবে লিখতে পারে তা বুঝতে পারছি না। সমাজেই সবাই তাহলে অসুস্থতার পথে হাঁটছি।বাংলা ভ্রমণসাহিত্যের তিন অমররত্ন সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্নদাশংকর রায় এবং মুজতবা দ্য গ্রেট তো অন্যের ধর্মে বিশ্বাসে আঘাত দেননি। তাঁরা তবে এত বেশি পাঠকপ্রিয়তা কীভাবে পেলেন? হাল আমলে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় হুমায়ূন আহমেদও ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন কই তাঁরা তো সাম্প্রদায়িকতা আনেন নি। তাঁরা তো জনপ্রিয়তার মাপকাঠির বাইরের লোক।ইদানীং শাকুর মজিদ মঈনুস সুলতান নামের দুই ভদ্রলোকের ভ্রমণকাহিনী পড়ি। তাঁরাও তো এভাবে আক্রমণ করেননি। তারেক অণুও বেশ লিখেন। তিনিও তো এসব ভুজুংভাজুং দেন না।লেখক জেরুসালেমকে তীর্থতুল্য মানেন। তাই আবেগের ফাঁদে পড়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না হয়ত। নানা উদ্ভট কথাবার্তা লিখে দিলেন।বুলবুল সরওয়ারের লেখকের জন্ম ১৯৬২ ফ্লপ মতেজন্মের ঢের আগে এক বাঙালি হিন্দু সাধু তীর্থ ভ্রমণ নিয়ে ধর্মীয় রসে ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন মরুতীর্থ হিংলাজ নামে। সেই সাধু অবধূত তো তাঁর বইতে অপরের বিশ্বাসকে আঘাত করেননি। অথচ নিজ ধর্মের গুণকীর্তন সারা বইতে ঠিকই করেছেন।তবুও বলবো জনাব বুলবুল সরওয়ার যথেষ্ট পড়াশোনা করে বইটি লিখেছেন। বিশেষত ইতিহাসের ওপর তাঁর দখল নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য।তাঁর এই বই পড়ে ক্রুসেড নিয়ে আলাদা আগ্রহ সৃষ্টি হল জানতে ইচ্ছা করছে রুকনউদ্দিন বাইবার্সকে নিয়ে। ঘাঁটাতে হবে নতুন করে জ্যাক দ্য রিপারের ঘটনাটিকে। আর তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব তো সারা বই জুড়েই ছিল।